ঘ্যাঁক্ক সমাচারঃ Seafish Soup

 আমি কখনো ভয়েই ফিশ-স্যুপ খাবার দুঃসাহস করিনি!

কেন যেন আমার ধারণা ছিল ফিশ-স্যুপ সবথেকে "ঘ্যাঁক্ক" ধরণের স্বাদের হবে! 

[বিঃদ্রঃ 

শোভন ভাই-এর মতে নিকৃষ্টতর স্বাদের কিছু বুঝাতে এই "ঘ্যাঁক্ক" শব্দটি বড়ই যুতসই! যদিও বাংলা একাডেমিকে এ ব্যাপারে প্রস্তাবনা দেয়া হয়নি!]

তো যাহোক, 

একদিন স্কুইড খাবার প্রসঙ্গে রিদওয়ান ভাই আমাকে ফিশ-স্যুপ খাবার ব্যাপারে বেশ উৎসাহিত করে ফেললেন! 

হঠাৎই সেদিন মনে হলো, আজতো আমার সাপ্তাহিক "খাদ্য দিবস"।

অতএব, আজকে ফিশ-স্যুপ খেয়ে দেখি! 

[বিঃদ্রঃ

আমি চাকুরিজীবনে খুবই কর্মঠ মহিলা হলেও, বাজার সদাই বা রান্নাবান্নাটা আমার দ্বারা কখনোই হয়ে উঠেনি। 

যার কারণে সারা সপ্তাহ এলেবেলে করে কাটিয়ে দিয়ে, সপ্তাহে এক/দু'বার খাদ্যদিবস পালন করি। 

সেদিন বাইরে থেকে খাবার অর্ডার করি!]


জীবনে প্রথমবার খাবো বলে, অতৃপ্তিকর অভিজ্ঞতা থেকে বাঁচতে রিস্ক না নিয়ে মারমেইড থেকেই অর্ডার করলাম! 

কারণ, সীফুড আইটেমের জন্য কক্সবাজারে মারমেইড'ই বোধহয় প্রথমে থাকে তালিকায়! (আমার ক্ষুদ্র রেস্টুরেন্ট জ্ঞানমতে)

পার্সেল পেয়ে স্যুপের বাটির উপর দেখি ফয়েল পেপারে মোড়ানো একটা "কিছু-মিছু"।

চকচকে চোখে প্রচুর আগ্রহ নিয়ে আলতো করে এর পরত খোলা শুরু করলাম, স্যুপের বাটির দিকে ভ্রুক্ষেপ না করে।

খুলে দেখি একখানা পাউরুটির টুকরো! 

হাতে নিয়ে অনেকক্ষণ নেড়েচেড়ে, এপিঠ-ওপিঠ ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখে বোঝার চেষ্টা করছিলাম যে,

 বিলাসবহুল মারমেইড ক্যাফের দামী খাবারের সাথে, অনেক যত্নে ফয়েল পেপারে মুড়ানো কাগজের ভেতরে থাকা এই এক-টুকরো পাউরুটির "মাহাত্ম্য" কি হতে পারে! 

শেষে বাহ্যিক দৃষ্টির তীক্ষ্ণতার উপর ভরষা হারিয়ে, খুব সাবধানে আস্তেএএএ করে কামড় দিলাম!

অনন্তকাল সময় নিয়ে চাবালাম!

চাবাতে চাবাতে সবক'টি ইন্দ্রিয়কে সজাগ রেখে বোঝার চেষ্টা করে গেলাম।

শেষমেশ চাবানোর কিছু আর না থাকায়, কোঁৎ করে গিলে ফেললাম। 

গিলেও ইন্দ্রিয় সজাগ রেখে অপেক্ষায় থাকলাম, "বিশেষ" কিছু একটার!   

এই সমস্ত প্যাকেট উন্মোচন থেকে শুরু করে হজমজাতকরণ প্রক্রিয়ারটির কোথাও কোনো বিশেষ কিছুর ছিঁটেফোঁটাও পেলাম না। 

যারপরনাই আশাহত হয়ে তীব্র অভিমানে, 

পাউরুটি টুকরোর বাকিটা চা দিয়ে খাবার মতো স্যুপে চুবিয়ে খেয়ে ফেললাম! 

স্যুপের চেহারা দেখেই একটু ধাক্কা খেলাম!

অনেকক্ষণ নেড়েচেড়ে এক চামুচ তুলে একটু সন্দেহজনক চোখে চেয়ে রইলাম!  এরপর সুড়ুৎ করে পেটে চালান করে দিয়ে আবারও ইন্দ্রিয় সজাগ করে ব্যাপার বোঝার চেষ্টা করলাম! 

তারপর যাহোক,

এক সময় যেয়ে খাবারটির এক্সপেরিমেন্টের এখানেই সমাপ্তি হলো! 

তবে সারসংক্ষেপ এটিই,

জীবনে মাছের স্যুপ আর খাচ্চিনে বাপু! 

ও টাকা দিয়ে দু'বার চারবার আমার অই একঘেঁয়ে, রোজকার বিরিয়ানিই খাবো সেই ভালো!


Comments

Popular Posts