গোলাপিনেশাঃ কাশ্মিরী কাচ্চি!!!
তানিমকে আমেরিকায় স্কলারশিপের জন্য প্রস্তুতি নিতে দেখতেসি বেশ ক'বছর ধরেই। হুট করেই সেদিন যখন সুখবরটা পেলাম যে ওর স্কলারশিপ কনফার্ম , বিশ্বাস হতে চায়নি।
১৫/১৬ তারিখের দিকে শুনি ২২ তারিখে ওর আমেরিকার ফ্লাইট।
আমার মাথায় কনগ্রাচুলেশন জানানোর আগে শুরুতেই যেইটা কাজ করেছিল তা হলো,
"আয়হায়! তানিমের না কাচ্চি রান্না করে খাওয়ানোর কথা! একবার আম্রিকা পার হইলেত আর পাবার সম্ভাবনা প্রায় নাই!!" 😆
সেজন্য ভাবলাম সামনে যে ৩দিন ঈদের ছুটি আছে, তাতে খুব ঝক্কি-ঝামেলার হলেও সিলেট ঢুঁ মেরে আসি। অন্তত একবার দেখা করা উচিৎ।
মূলত তানিম তার কাচ্চি রান্নার ভিডিও থেকেই এই আবদারের সূত্রপাত আর আমার বিরিয়ানি উন্মাদনাতো সর্বজন বিদীত!
এয়ারপোর্ট থেকে গাড়িতে উঠার পর জয়দা জানালেন আমাদের টাঙ্গুয়ার হাওড়ে রাত কাটানো প্ল্যান আর তানিমের বিরিয়ানি প্ল্যান ওভারল্যাপ হয়েছে।
একটু মন খারাপ হলো। কারণ কখনোই ছুটি আর বর্ষা একসাথে মেলেই না আমার।
আর বর্ষা ছাড়া হাওড়ে যাওয়ার মানে নেই।
জয়দা বললেন, "কি করবা, কাচ্চির প্ল্যান বাদ!?"
আমি মালনিছড়া চা বাগানের ঘ্রাণ নিতে নিতে বললাম, "তানিম আর তানিমের কাচ্চি প্রায়োরিটি, হাওড় বাদ! বেঁচে থাকলে পরে আবার আসব।"
এই মালনিছড়া নিয়ে তানিমের সাথে বড়ই মজার একটা স্মৃতি ছিল যেবার প্রথম সিলেট গিয়েছিলাম!
সেদিন ঘুম থেকে উঠলাম প্রায় দুপুর ১২/১টা। উঠেই তড়িঘড়ি গেলাম জাদুর দোকানে বাজার নিয়ে আসতে। জাদুকে আগেই লিস্ট দিয়ে দেয়া ছিল।
ছেলেটা সত্যিই কাচ্চি রানতে এলো। একদম জিরো থেকে কাচ্চির প্রস্তুতি নিল, তাও আবার রোজা থেকে।
অসম্ভব দুর্দান্ত কাচ্চি রান্না করলো নিঃসন্দেহে।
তবে ফুড কালারের ভুল রঙের কারণে, কাচ্চির রঙ হয়ে গেলো গোলাপি!!!
তানিম বললো, "আরে ভালো হইসে। আপনাদেরকে কাশ্মিরী কাচ্চি খাওয়ালাম। কাশ্মিরী কাচ্চি গোলাপি রঙের হয়!"
আমিতো রীতিমতো বোরহানি আর কোকাকোলার বোতল নিয়ে বসেছিলাম আয়েশ করে।
মোটামুটি রাতভর খাবো এই কাচ্চি!




Comments